Cloud Computing

Cloud Computing

Cloud Computing

প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করবো বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত ও ব্যবহৃত একটি টপিক ক্লাউড কম্পিউটিং । আসুন আমরা এই টপিক সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি ।
ক্লাউড কম্পিউটিং কি ?
ক্লাউড কম্পিউটিং হল ব্যবহারকারীর চাহিদামত কম্পিউটার সিস্টেম রিসোর্সের (ডাটা স্টোরেজ ও কম্পিউটিং পাওয়ার )যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু এর প্রাপ্যতা এবং যেখানে ব্যবহারকারীর সরাসরি কোন সক্রিয় পরিচালনার প্রয়োজন হয় না । ক্লাউড কম্পিউটিং শব্দটি সাধারণত ব্যবহার করা হয় এইভাবে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনেক ব্যবহারকারীর জন্য ডাটা সেন্টার গুলিকে উন্মুক্ত করে দেয়া । যেখানে যার যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু রিসোর্স ব্যবহার করার সুবিধা প্রদান করে ।
সেন্ট্রাল সার্ভার থেকে বিভিন্ন অবস্থানে বিতরণের ব্যবস্থা থাকে । যদি সার্ভারের অবস্থান ব্যবহারকারীর কাছে হয় তাহলে সেখানে এজ সার্ভার ব্যবহার করা হয় ।
ক্লাউড ছোট সংস্থার জন্য ছোট আকারে এবং বড় সংস্থার জন্য বড় আকারে ব্যবহার করার সুবিধা থাকে ।
ক্লাউড কম্পিউটিং অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য তার রিসোর্স গুলো ভাগ করে ব্যবহার করার সুবিধা দেয়। প্রাথমিক আইটি অবকাঠামো তৈরির ব্যয় কমাতে ক্লাউড কম্পিউটিং এর ব্যবহার আজ সর্বজন স্বীকৃত ।
ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রবক্তারা দাবি করেছেন যে, এটি ব্যবহার করার ফলে কম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের সাথে উন্নত পরিচালন যোগ্যতা বেড়ে যায় । সাথে সাথে তাদের আপ্লিকেশন গুলি দ্রুততর চলতে দেয় এবং সংস্থানগুলিকে আরও দ্রুত সংযোজন করতে সক্ষম হয় ।
উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন নেটওয়ার্ক, স্বল্পমূল্যের কম্পিউটার এবং স্টোরেজ ডিভাইসের প্রাপ্যতা পাশাপাশি হার্ডওয়্যার ভার্চুয়ালাইজেশন, পরিষেবা-ভিত্তিক আর্কিটেকচার এবং স্বায়ত্তশাসন ও ইউটিলিটি কম্পিউটিংয়ের ব্যাপক গ্রহণের ফলে ক্লাউড কম্পিউটিং বৃদ্ধি পেয়েছে
২০১৯ সালে মাইক্রোসফট এর বিভিন্ন অফারসহ লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বেশি ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম ।
ক্লাউড কম্পিউটিং এর ইতিহাস
History of Computer
ইন্টারনেটে ১৯৭৭ সালে আরপানেট ও ১৯৮১ সালে সিএসনেট প্রথম ক্লাউড সিম্বলটি ব্যবহার করে । তারা কম্পিউটিং যন্ত্রাংশ এর নেটওয়ার্ক কে উপস্থাপন করার জন্য এই সিম্বল ব্যবহার করেছেন । ক্লাউড শব্দটি ইন্টারনেটের রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো এবং টেলিফোনি স্কিমেটিক্সের কোন নেটওয়ার্ক কে বুঝাতে একটি মানযুক্ত মেঘের মত দেখতে আকৃতির সিম্বল ব্যবহার করা হয়েছে ।
ক্লাউড শব্দটি ১৯৯৩ সালে অ্যাপল স্পিন –অফ জেনারেল ম্যাজিক এবং এটিএন্ডটি তাদের জোড়যুক্ত টেলিস্ক্রিপ্ট এবং পার্সোনাল লিংক প্রযুক্তির বর্ণনা করা হয়েছিল ।
ক্লাউড কম্পিউটিং শব্দটি প্রথম ১৯৯৬ সালে কমপ্যাকের অভ্যান্তরিন নথিতে ব্যবহার করেছিল । কিন্তু এই শব্দটি ২০০৬ অ্যামাজন ডট কমের ইলাস্টিক কম্পিউট ক্লাউড পণ্য প্রকাশের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে ।
ক্লাউড এর ধরন
ক্লাউড কে তিন ভাগে ভাগ করা যায় । যেমন প্রাইভেট ক্লাউড, পাবলিক ক্লাউড ও হাইব্রিড ক্লাউড।
প্রাইভেট ক্লাউডঃ প্রাইভেট ক্লাউড হল একক সংস্থা দ্বারা ব্যবহৃত হয় এমন একটি ক্লাউড যার ডাটা এবং অ্যাপ্লিকেশন গুলো ব্যবহার করার জন্য কঠোর সম্মতির প্রয়োজন হয় । সাধারণত ব্যবহারকারীরা একটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে এর সার্ভিস গুলো ব্যবহার করতে হয় । এর জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষার কারনে অনুমোদিত ডিভাইসের প্রয়োজন হয় ।
পাবলিক ক্লাউডঃ পাবলিক ক্লাউড প্রায় প্রাইভেট ক্লাউডের মতই কিন্তু ইহা ভিন্ন স্কেলে ব্যবহার করা হয় । পাবলিক ক্লাউড নেটওয়ার্ক গুলিকে সেগমেন্ট অনুযায়ী ভাগ করা হয় এবং ব্যবহারকারিরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী সাবস্ক্রিপশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে । এই কাজের জন্য একাধিক সার্ভার এমন কি শত শত হাজার হাজার হতে পারে এবং এগুলো বিভিন্ন লোকেশনে থাকে যাতে করে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দমত রিসোর্স ব্যবহার করতে পারেন ।
হাইব্রিড ক্লাউডঃ হাইব্রিড ক্লাউড হল প্রাইভেট ক্লাউড ও পাবলিক ক্লাউড এর সমন্বয় । এখানে দুইটি ক্লাউড সমান্তরাল্ভাবে কাজ করতে পারে । এই ক্লাউড একই সাথে প্রাইভেট ও পাবলিক ক্লাউডের সার্ভিস গুলো দিতে পারে ।
ক্লাউড কম্পিউটিং এর সার্ভিসের প্রকারভেদঃ
সমস্ত পাবলিক ক্লাউড কম্পিউটিং এর পরিসেবাগুলো একই ধরণের ধারনামুলক অবকাঠামোর উপর তৈরি যা ডাটা সেন্টার দ্বারা চালিত । যেহেতু তাদের মধ্যে অনেক মিল আছে তাই তাদের কে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি স্তর নিচের অংশের চেয়ে বিশেষায়িত ।
Infrastructure as a Service (IaaS)
ক্লাউড কম্পিউটিং পিরামিড এর ভিত্তি হিসেবে আইএএএস হল সবচেয়ে বিস্তৃত ও নমনীয় ক্লাউড পরিসেবার । মূলত এটি একটি সম্পূর্ণ ভার্চুয়ালইজড কম্পিউটিং অবকাঠামো সরবরাহ করে যা ইন্টারনেট সরবরাহ এবং পরিচালনা করা হয় । আইএএএস সার্ভিস সরবরাহকারী ফিজিক্যাল এবং অবকাঠামো যেমন সার্ভার, ডেটা স্টোরেজ স্পেস ইত্যাদি পরিচালনা করে তবে তাদের গ্রাহকেরা তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুসারে সেই ভার্চুয়াল রিসোর্সগুলি কাস্টমাইজড করতে দেয় ।
Platform as a Service (PaaS)
আইএএএস এর উপরের পিরামিডে আছে পিএএএস ক্লাউড কম্পিউটিং । যেখানে আইএএএস ক্লাউডের মাধ্যমে উপলভ্য সমস্ত সরঞ্জাম সরবরাহ করে এবং গ্রাহকদের কাছে যা কিছু প্রয়োজন হয় তার প্রয়োজন অনুসারে এটি ছেড়ে দেয়, এর থেকে পিএএএস কিছুটা বিশেষায়িত । খাটি অবকাঠামোর পরিবর্তে পিএএএস সফটওয়্যার পণ্যগুলি তৈরি, পরীক্ষা, স্থাপন, পরিচালনা ও আপডেড করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে । এটি আইএএএস এর মতো একই বেসিক অবকাঠামোটি ব্যবহার করে তবে এটি সফ্টওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার জন্য অপারেটিং সিস্টেম, মিডওয়্যার, ডেভলপমেন্ট সরঞ্জাম এবং ডেটাবেস পরিচালনা ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করে।
Software as a Service (SaaS)
এসএএএস ক্লাউড কম্পিউটিং এর শীর্ষে অবস্থান করছে এবং বেশিরভাগ মানুষের কাছে সর্বাধিক পরিচিত কারন এটি একটি সম্পূর্ণ বিকাশযুক্ত সফটওয়্যার সমাধান যা সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্রয় এবং ব্যবহার করা যায় । এসএএএস ক্লাউড কম্পিউটিং সরবরাহকারীরা প্রোগ্রামটি সরবরাহের জন্য অবকাঠামো, অপারেটিং সিস্টেম, মিডলওয়্যার এবং প্রয়োজনীয় ডেটা পরিচালনা করে । এসএএএস ক্লাউড কম্পিউটিং এটি নিশ্চিত করে যে যখন যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু ব্যবহার করার সুবিধা । এছাড়াও ইন্সটল ও ডাউনলোড ছাড়াই ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যায় ।
More About Cloud Computing
More About Cloud Computing
Learn More Cloud Computing

Add a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।