Satellite স্যাটেলাইট

Satellite

Satellite

প্রিয় বন্ধুরা, আজ আমরা আলোচনা করবো স্যাটেলাইট সম্পর্কে । আমাদের আলোচনার মাধ্যমে আমরা জানার চেষ্টা করবো –

  • স্যাটেলাইট কি ?
  • স্যাটেলাইটের ইতিহাস ?
  • স্যাটেলাইট কত প্রকার ও কি কি ?
  • স্যাটেলাইট কিভাবে কাজ করে?
  • স্যাটেলাইটের উপকারিতা ?

তাহলে প্রথমে আমরা জানার চেষ্টা করি স্যাটেলাইট কি ?

আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র বা নাসার মতে স্যাটেলাইট হল চাঁদ, গ্রহ অথবা মেশিন যা গ্রহ বা নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে বা ঘুরে । উদাহরণ দিতে গিয়ে আমরা বলতে পারি, পৃথিবী একটা স্যাটেলাইট কেননা পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে । আবার চাঁদ ও একটা স্যাটেলাইট কারন চাঁদও পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে । আমরা সাধারণত স্যাটেলাইট বলতে যেটাকে বুঝি সেটা হল একটা মেশিন যা পৃথিবীর বাহিরের মহাকাশে স্থাপন করা হয় এবং সেটা পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে ।

পৃথিবী ও চাঁদ প্রাকৃতিক স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ । এছাড়া মানুষের তৈরি হাজারের অধিক কৃত্রিম উপগ্রহ আছে মহাকাশে যেগুলো পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে । কিছু আছে যেগুলো গ্রহের ছবি সংগ্রহ করে আবহাওয়া ও হ্যারিক্যান সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সাহায্য করে । কিছু আছে যেগুলো অন্য গ্রহের যেমনঃ সূর্য, ছায়াপথ, কৃষ্ণগহবর, ও অন্যান্য গ্রহের ছবি তোলে যা বিজ্ঞানীদের সৌরজগত সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে ।

কিছু কিছু স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ আছে যেগুলো শুধু যোগাযোগের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে যেমনঃ টেলিভিশনের সংকেত ও মোবাইল ফোনের সংকেত সারা পৃথিবীব্যাপি প্রেরণ ও গ্রহণের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । সারা বিশ্বের ২০ টির অধিক স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয় অবস্থান নির্ণয় করার কাজে । যাকে আমরা জিপিএস নামে চিনি ।

স্যাটেলাইটের ইতিহাস

১৬৮৭ সালে বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন তার A Treatise of the System of the World বইয়ে নিউটন ক্যাননবল নামে একটি গানিতিক চিন্তার পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহের কথা বলেন । তিনি অনুমান করতেন যে মহাকর্ষ শক্তি সর্বজনীন এবং এটি ছিল গ্রহের মুল শক্তি । এরপরও আরও অনেক বিজ্ঞানী, কবি সাহিত্যিক, জ্যোতির্বিদ এই বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন ।

১৯৪৫ সালে ইংরেজি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক আর্থার সি ক্লার্ক তার তারবিহীন বিশ্ব সম্পর্কিত একটি প্রবন্ধে বিস্তারিত উল্লেখ করেন যে কিভাবে যোগাযোগ উপগ্রহ ব্যবহার করে ব্যাপক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা যায় । তিনি আরও বলেন যে তিনটি ভূকেন্দ্রিক উপগ্রহ সারা বিশ্বের যোগাযোগ স্থাপন করে দিতে পারে । ১৯৪৬ সালে আমেরিকার বিমান বাহিনী একটি মহাকাশ কেন্দ্রিক প্রজেক্ট গ্রহণ করে যার নাম র‍্যানড । যার মাধ্যমে তারা আশা করেছিল যে উপগ্রহ যন্ত্র বিংশ শতাব্দীতে একটা উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রে পরিনিত হবে। যদিও আমেরিকার মহাকাশ বিভাগ ১৯৪৫ সাল থেকে উপগ্রহ তৈরির কাজ করে আসছিলো ।

১৯৫৫ সালে ২৯ জুলাই আমেরিকা ঘোষণা করল যে তারা ১৯৫৮ সালে উপগ্রহ উদ্বোধন করবে । যা প্রজেক্ট ভ্যানগার্ড নামে পরিচিত । কিন্তু ৩১ জুলাই ১৯৫৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ঘোষণা করল যে তারা ১৯৫৭ সালে উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট উদ্বোধন করবে । ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রধান নকশাকারক সারজেই করলেভ সাহায্যে Sputnik program এর অধিনে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ Sputnik 1 উৎক্ষেপণ করে । Sputnik 1, এর সাহায্যে উচ্চ আবহাওয়া অঞ্চলের ঘনত্ব পরিমাপ করা যেত । এর মাধ্যমে আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ঠাণ্ডা যুদ্ধে লিপ্ত হয় ।

১৯৫৮ সালের ৩১ জানুয়ারি আমেরিকা তাদের ভ্যানগার্ড প্রজেক্টের মাধ্যমে এক্সপ্লরার ১ নামের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে । ১৯৬১ সালে Sputnik 1 উৎক্ষেপণের সাড়ে তিন বছর পরে আমেরিকার মহাকাশ নেটওয়ার্ক ১১৫ ধরণের পৃথিবী কেন্দ্রিক উপগ্রহ প্রেরণ করে ।

ict-mcq

স্যাটেলাইট কত প্রকার ও কি কি ??

কাজের উপর ভিত্তি করে অনেক ধরণের স্যাটেলাইট হতে পারে আমরা কয়েকটি স্যাটেলাইটের নাম জানবো –

  • যোগাযোগের উপগ্রহ (Communications Satellite)
  • রিমোট সেন্সিং উপগ্রহ (Remote Sensing Satellite)
  • ন্যাভিগেশন উপগ্রহ (Navigation Satellite)
  • ড্রোন উপগ্রহ (Drone Satellite)
  • জিপিএস উপগ্রহ (GPS Satellite)
  • পোলার উপগ্রহ (Polar Satellite )
  • ভূমি উপগ্রহ (Ground Satellite)
  • ভূ-সমলয় উপগ্রহ (Geostationary Satellite)
  • ভূকেন্দ্রিক উপগ্রহ (Geocentric Orbit type satellite)

স্যাটেলাইট কিভাবে কাজ করে ?

পৃথিবীর কোন প্রান্ত থেকে যখন কোন সিগন্যাল পৃথিবীর অন্য প্রান্তে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় তখন তা ভূপৃষ্ঠ থেকে স্যাটেলাইটে প্রেরণ করে এবং স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ তা গ্রহণ করে পরে তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে প্রেরন করে ।

স্যাটেলাইটের উপকারিতা

স্যাটেলাইটের অনেক উপকারিতা আছে নিন্মে কিছু উপকারিতা আলোচনা করা হল

  1. ফিক্সড স্যাটেলাইট সার্ভিসের মাধ্যমে কোটি কোটি ভয়েস, ডাটা এবং ভিডিও সারা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে প্রেরণ ও গ্রহণ করা হয় ।
  2. মোবাইল স্যাটেলাইট সিস্টেম এর সাহায্যে দুরের অঞ্চল, গাড়ি, জাহাজ, মানুষ, বিমান ইত্যাদিতে যোগাযোগ স্থাপন করা সহজ হয়েছে ।
  3. বৈজ্ঞানিক গবেষণা স্যাটেলাইট বা উপগ্রহের সাহায্যে প্রাকৃতিক পরিবেশ, ভূমি গবেষণা, রেডিও, ভূবিজ্ঞান, সমুদ্র বিজ্ঞান, এবং আবহাওয়া সম্পর্কে গবেষণা করা সহজতর হয়েছে ।

স্যাটেলাইটের অপকারিতা

একটি স্যাটেলাইটের নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল থাকে তারপর তা নষ্ট হয়ে যায় এবং তার অবশিষ্ট অংশগুলো মহাকাশে রয়ে যায় । এবং এই ভগ্নাংশগুলো মহাকাশে এলোমেলো ভাবে ঘুরতে থাকে ।

এখন আমরা জানব পৃথিবীর কোন কোন দেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে ।

  1. সোভিয়েত ইউনিয়ন ৪ অক্টোবর ১৯৫৭ সালে স্পুতিনিক ১ , রাশিয়া ২১ জানুয়ারি ১৯৯২ কসমস ২১৭৫, ইউক্রেন ১৩ জুলাই ১৯৯২ স্ত্রেলা ।
  2. আমেরিকা ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮ এক্সপ্লোরার ১
  3. ফ্রান্স ২৬ নভেম্বর ১৯৬৫ এস্তেরিক্স
  4. জাপান ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ অহসুমি
  5. চীন ২৪ এপ্রিল ১৯৭০ ডং ফাং হং ১
  6. যুক্তরাজ্য ২৮ অক্টোবর ১৯৭১ প্রস্পেরু
  7. ভারত ১৮ জুলাই ১৯৮০ রোহিণী ডি ১
  8. ইসরায়েল ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ অফেক ১
  9. ইরান ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ অমিদ
  10. উত্তর কোরিয়া ১২ ডিসেম্বর ২০১২ কাংগাওয়াসং – ৩
  11. দক্ষিন কোরিয়া ৩০ জানুয়ারি ২০১৩ এসটিস্যাত ২ সি
  12. নিউজিল্যান্ড ১২ নভেম্বর ২০১৮ কিউবস্যাত

বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু ১

এবার আমরা জানব বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু ১ সম্পর্কে – বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ প্রথম বাংলাদেশী ভূকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও ব্রডকাস্টিং স্যাটেলাইট। এই স্যাটেলাইটের নামকরন করা বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের নামে । এটা থেলেস এলেনা স্পেস তৈরি করে এবং ১১ মে ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণ করা হয় । এই স্যাটেলাইটটি স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ রকেটে করে উৎক্ষেপণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ সমগ্র বাংলাদেশ ও বঙ্গপোসাগর ছারাও পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ভারতের অনেক অংশ ফিলিপিন্স, ও ইন্দোনেশিয়া জুড়ে তথ্য উপাত্ত প্রেরণ ও গ্রহণ করতে পারে । প্রাইমারী ভুউপগ্রহ কেন্দ্র গাজীপুর ও দ্বিতীয় ভুউপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুনিয়া রাঙ্গামাটি থেকে পরিচালনা করা হয় । আশা করি উপরের প্রবন্ধ থেকে আপনারা উপকৃত হবেন ।

Ref: wikipedia
NASA

Add a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।